বগুড়ায় স্ত্রীর নির্যাতন সইতে না পেরে স্বামী থানায় অভিযোগ

জীবন যাপন

মতিন খন্দকার টিটু :
বগুড়ার গোকুলে স্ত্রীর নির্যাতন সইতে না পেরে এক নির্যাতিত স্বামী কর্তৃক অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে।
পুরুষ নির্যাতনের অভিযোগে বগুড়া সদর থানায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন স্বামী নুরুল ইসলাস (৬০) নামের এক ব্যক্তি।
কথায় কথায় স্বামীকে নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও তালাক দেয়ার হুমকি এনে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন গোকুল উত্তরপাড়া গ্রামের মনির উদ্দিনের পুত্র নুরুল ইসলাম।
অভিযোগে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের নরুল ইসলাম প্রায় ৩২ বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে রেহেনা বেগম নামের এক নারীকে বিয়ে করে সুখে শান্তিতে বসবাস করে আসছেন। তাদের সংসারে দুটি কন্যা ও ১টি পুত্র সন্তানও রয়েছে। বর্তমানে পাশের বাড়ির রাঙ্গা (৫৫) নামের এক জনৈক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী রুনা ওই পরিবারে রেহেনা বেগম কে কুবুদ্ধি দিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করছে বলে তিনি জানান। সংসার ফেলে স্ত্রী ভরদিন রাঙ্গার বাড়িতে যাওয়া আসা করে এতে নুরুল নিষেধ করলে স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হয়।
এলাকাবাসী জানায়, তাদের সংসারে অশান্তির কারনই হলো রাঙ্গার পরিবার। রাঙ্গার বাড়িতে না যাওয়ার জন্য বারবার নিষেধ করার পরেও তুচ্ছ ঘটনা হলেই রেহেনা তার শরীরে হাত তুলে মারধোর পর্যন্ত করে। প্রায় সময় অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে তাকে তালাকের হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়। নুরুল একজন মুদি দোকানদার। গোকুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে তার একটি মুদির দোকান রয়েছে। গত ১ মাস যাবৎ দোকানটি স্ত্রী রেহেনা তার লোকজন দ্বারা বন্ধ করে দিয়েছে। দোকান খুললেই তাকে প্রাণনাশ করা হবে বলেও হুমকি দিয়েছে স্ত্রী রেহেনা।
শুধু তাই নয়, গত কয়েক মাসপূর্বে স্ত্রী রেহেনা স্বামী নুরুলকে ফাঁসানোর জন্য ভোর থেকে নিখোঁজ হয়।
প্রায় ১৫ দিনপর রাঙ্গার এক আত্মীয় বাড়ি থেকে তাকে পাওয়া যায়।

স্ত্রীকে শাসন বাড়ন করে বকা দিলে সে নারী নির্যাতন মামলার হুমকিও দেয়।
এমতাবস্থায় শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে অবশেষে সদর থানায় এসে অভিযোগটি দায়ের করেন।
নুরল ইসলাম বলেন, স্ত্রীর অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তাদের থানায় ডেকে পুনরায় ঘরসংসার করার জন্য বলেন। এতে রেহেনা রাজি হয়ে থানা থেকে বের হয়ে আবারও রাঙ্গার বাড়িতে যায়। এ নিয়ে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি বেশ কয়েক দফা শালিস বৈঠক করেও রেহেনা কে অনুকুলে আনতে পারেনি। বরং রেহেনার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নুরুল। নুরুল ইসলামের জামাই তুহিন বলেন, তাদের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ দেখে আমি নিজে রাঙ্গার পরিবারের সাথে মিসতে শাশুড়িকে নিষেধ করেছি। এতে শাশুড়ির উত্তেজিত বরং আরও বেড়ে যায়।
স্ত্রীর নির্যাতন বন্ধের লক্ষে নিরীহ নুরুল ইসলাম ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।