শুভ বড়দিন

মতামত

আজ শুভ বড়দিন। ২০১৭ বছর আগে জেরুজালেমের কাছাকাছি বেথলেহেম নগরীর এক গোয়ালঘরে আজকের দিনে জন্ম নিয়েছিলেন খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশু। যিশু এসেছিলেন মানবজাতির ত্রাণকর্তা হিসেবে। হিংসা, বিদ্বেষ, পঙ্কিলতার পথ থেকে মানুষকে উদ্ধার করে তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন ভালোবাসা, করুণা, মিলন ও সুন্দরের পথ। তাই তাঁর জন্মদিন শুধু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য আনন্দবার্তা বয়ে আনেনি, সমগ্র মানবজাতির জন্যই দিনটি আনন্দের।

যিশু যে মানবিক আদর্শের বাণী প্রচার করে গেছেন, তা সর্বকালে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সবার জন্য প্রযোজ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর শান্তির বাণী শাশ্বত। যিশুর আহ্বান ও আত্মত্যাগ সব অশুভ ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে। আর্তপীড়িতদের প্রতি তিনি তাঁর শান্তির পরশ বুলিয়ে দিতেন। মতবাদ প্রচারের সময় অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন যিশু। কিন্তু কোনো নির্যাতন-নিপীড়নই তাঁকে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। নিপীড়কের বিরুদ্ধে তিনি পাল্টা আঘাতের কথা বলেননি, ক্ষমা করে দিয়েছেন। মানুষকে ভালোবাসার, মানবতাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিতে গিয়ে তিনি ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার মতো মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিয়েছেন।

সারা বিশ্বে আজ এত হানাহানি, এত অশান্তি ও সংঘাত। যিশুর শান্তির বাণী এই হানাহানি ও সংঘাত দূর করার পাথেয় হতে পারে। প্রতিটি ধর্মেরই মূলকথা মানবতাবোধ। বড়দিন উপলক্ষে যে প্রেম ও আশার বাণী প্রচার করা হয়, তারও মূলে রয়েছে মানবতা। তাই বড়দিন হোক সব পথভ্রষ্ট মানুষের শুভবুদ্ধি উদয়েরও দিন।

বড়দিন বা যিশুখ্রিষ্টের পবিত্র জন্মতিথিতে আমরা বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এ উপলক্ষে ধর্ম-বর্ণ-জাতিনির্বিশেষে গোটা মানবজাতিরই কল্যাণ ও মুক্তি কামনা করি আমরা। যিশু যেমন তাঁর জীবন দিয়ে অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ থেকে মুক্ত করেছিলেন মানুষকে; যেভাবে মানুষের সব শোক-দুঃখের ভার গ্রহণের জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন; তেমনই মানুষের মধ্যে মুক্তি ও ত্যাগের চেতনা ছড়িয়ে পড়ুক—এই প্রত্যাশাই আমরা করি। যিশুর সংযম, সহিষ্ণুতা ও ভালোবাসার শিক্ষা হোক সবার পাথেয়। বড়দিন প্রত্যেক মানুষকে শান্তি, প্রেম ও সম্প্রীতির শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করুক। পৃথিবী থেকে দূর হোক হিংসা ও অশান্তি। শুভ বড়দিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।