বগুড়ায় রিক্সাচালকদের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

অন্যান্য

মতিন খন্দকার টিটু :
বগুড়ায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে অটোরিকশা-ভ্যান শ্রমিক ও মালিক সংগ্রাম পরিষদ। রোববার বেলা ১১ টার দিকে শহরের উত্তরের প্রবেশ পথ মাটিডালিতে ওই বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশ শেষে পদযাত্রার কথা থাকলেও তা করা হয় নি। সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাসের ভিত্তিতে পদযাত্রা স্থগিত করা হয়। সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে আমাদের ৫ দফা দাবি মেনে না নিলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে জেলা পুলিশ গত ১ জানুয়ারি থেকে শহরের ইজিবাইক, অটোরিকশা, মেট্রোরিকশা ও সব ধরনের ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। পৌরসভার অননুমোদিত এসব যানবাহনগুলো যাতে জিরোপয়েন্ট সাতমাথাসহ সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য তাদের চলাচলের সীমা উত্তরে বড়গোলা, দক্ষিণে ইয়াকুবিয়া স্কুল ও দক্ষিণ-পশ্চিমে টিটু মিলনায়তন মোড়, পশ্চিমে বিআরটিসি মার্কেটের প্রবেশ মুখ, উত্তর-পশ্চিমে সেলিম হোটেলের সামনে, পুর্বে রানার প্লাজা ও চেলোপাড়া ব্রিজের নীচ পর্যন্ত বেধে দেওয়া হয়। পরে শহরের রিকশা শ্রমিক ও মালিকগণ ১০ জানুয়ারি রোববার ৫ দফা দাবিতে বনানী থেকে শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা পর্যন্ত পদযাত্রা শেষে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। দাবিগুলো হলো- পৌরসভা থেকে অটোরিকশা ভ্যান-ইজিবাইকের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান, অটোরিকশা ভাংচুর, শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধ করা, রোড এবং স্ট্যান্ড নির্ধারণসহ স্ট্যান্ডগুলোতে পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করা, রাস্তায় মোটরসাইকেলসহ গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা।
৩ শতাধিক রিকশা শ্রমিকের অংশগ্রহণে রোববার বেলা ১১ টার দিকে মাটিডালিতে সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক কবির হোসেনের সভাপতিত্বে ওই বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা মাসুদ পারভেজ, প্রভাষক রঞ্জন কুমার দে, দিলরুবা নুরী, মাটিডালি আঞ্চলিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ফারুকুল ইসলাম মিন্টু, রাফিউল আলম সুমন, শাকপালা আঞ্চলিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক লিটন, বৌউবাজার আঞ্চলিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ইন্তেজার রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ রিপন, চারমাথা আঞ্চলিক সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সুমন, মাদলা আঞ্চলিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মমিনুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা রুমেল ও সোহাগ। সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা আব্দুল হাই এর পরিচালনায় বক্তারা বলেন, শহরের যানজট নিরসনের নামে প্রশাসন শহরের প্রাণকেন্দ্রে অটোরিক্সা-ভ্যান ঢুকতে দিচ্ছে না। অথচ যানজটের জন্য দায়ী অপ্রতুল রাস্তা। এর পাশাপাশি শহরের অভিজাত রেস্টুরেন্ট, বেসরকারি হাসপাতাল, ব্যাংক, শপিং মলের সামনে রাস্তা দখল করে মোটর সাইকেল ও গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। ফুটপাতগুলোও ব্যবসায়ীদের দখলে। এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই। তারা মিথ্যা অযুহাতে অটোরিক্সা-ভ্যানকে অবৈধ ঘোষণা করে কয়েক লক্ষ মানুষের জীবন অনিশ্চিত করে তুলেছে। এসব যানবাহন আমদানী করা, দেশের অভ্যন্তরে ক্রয় বিক্রয়ে সরকারি কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তাহলে এসব রাস্তায় চালানো অবৈধ কেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সরকার মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের আইন কে সংশোধন করে ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর যে গেজেট প্রকাশ করে, তার ৬নং অনুছেদ এর ১৭নং ধারা অনুযায়ী ভাড়ায় বা বাণিজ্যিক কাজে চালিত তিন চাকার যান্ত্রিক যানবাহনের ৪০০ টাকা ফির মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। এসময় বক্তারা আরো বলেন, ৫ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলমান থাকবে। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে কর্তৃপক্ষ কার্যকরী কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ধর্মঘট ও হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।