অনশনে শিক্ষক

মতামত

বেতন স্কেলে বৈষম্য কমানোর দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকেরা গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন করেছেন। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অনশনে সারা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অংশ নিয়েছেন। অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি আশ্বাস না পাওয়া কিংবা দাবিদাওয়া না মানা পর্যন্ত তাঁরা অনশন চালিয়ে যাবেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌনে তিন লাখ শিক্ষক আছেন।

দাবিদাওয়া আদায় করতে শিক্ষকদের রাজপথে নামা কিংবা আমরণ অনশনের মতো চরম কর্মসূচি নেওয়া জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমাদের সরকার কিংবা প্রশাসন অনেকটা কুম্ভকর্ণের মতো। সহজে তাদের ঘুম ভাঙে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন দেনদরবার করে আসছেন। তাঁদের যৌক্তিক দাবি হলো প্রধান শিক্ষকের থেকে তাঁদের বেতন তিন ধাপ নিচে থাকতে পারে না। আবার প্রধান শিক্ষকদের দাবি হলো তাঁদের চাকরি দ্বিতীয় শ্রেণির করা হলেও সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।

দুই দিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা অনশনে থাকলেও সরকার বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকাটা দুঃখজনক। চলতি শিক্ষা বছরের পড়াশোনা শেষ হলেও আগামী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রমও শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা। প্রতিবছর ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছানো হয়ে থাকে। শিক্ষকেরা আন্দোলন বা অনশনে থাকলে সেই কার্যক্রম ব্যাহত হবে। অতএব আমরা আশা করতে চাই যে সরকারের পক্ষ থেকে অনশনরত শিক্ষকদের দাবিদাওয়ার বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হবে।

কেবল প্রাথমিক নয়, সব পর্যায়ের শিক্ষকদের বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রতিবেশী দেশ ভারতের নীতি অনুসরণ করতে পারে। সেখানে প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষালয় পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়োগ করা হয় অভিন্ন নীতির ভিত্তিতে। তাঁদের বেতন-ভাতার ক্ষেত্রেও তেমন তারতম্য নেই। কিন্তু আমাদের এখানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেই বিশৃঙ্খলা রয়ে গেছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবিদাওয়ার কথা তুললেই সরকারের পক্ষ থেকে কারা পিএসসি ছাড়া এসেছেন, সেই প্রশ্ন তোলা হয়। এর আগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আলাদা কর্ম কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও অজ্ঞাত কারণে তা কার্যকর হয়নি।

শিক্ষক নিয়োগ থেকে পরীক্ষা—সব ক্ষেত্রে কঠোর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। এই শীতের দিনে খোলা আকাশের নিচে হাজার হাজার শিক্ষকের রাতযাপন কিংবা অনশন পালন তাঁদের প্রতি সরকারের দায়দায়িত্বহীন আচরণের কথাই মনে করিয়ে দেয়। আন্দোলনরত শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিন। এই লজ্জা থেকে জাতিকে মুক্তি দিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।